• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন
Headline
৪০ বছর পর জাতিসংঘের সভাপতির মসনদে বাংলাদেশ, খলিলুর রহমান নির্বাচিত মিরপুরে ফ্ল্যাটের ভেতর মায়ের মরদেহ পচে গেল, সন্তানদের খোঁজ মেলেনি ড. ফখরুদ্দীন-ড. নয়ন বাঙালির হ্যান্ডশেক, কনক সারোয়ার-নবনীতা চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া! কোরবানির পশুর চামড়া: সিন্ডিকেটের গ্রাসে গরিবের হক- মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির কুমিল্লা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ, শুভেচ্ছা জানালেন স্কুল অব লিডারশীপ ইউএসএ-এর ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ড. নয়ন বাঙ্গালী গঙ্গা চুক্তি ১৯৯৬: মেয়াদ শেষে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটুকু?- মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির মমতাময়ী মা দুঃখ বিলাসী মন- কবি শফিকুল ইসলাম “‘৪০ কোটির বন নিজের নামে’ রিপোর্ট অসত্য, প্রতিবাদ জানালেন যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ” বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন কৃষকদল সভাপতি হাসান জাফির তুহিন

ড. ফখরুদ্দীন-ড. নয়ন বাঙালির হ্যান্ডশেক, কনক সারোয়ার-নবনীতা চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া!

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির - কলামিস্ট, বিশেষ প্রতিবেদক। / ১০১ Time View
Update : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

ড. ফখরুদ্দীন-ড. নয়ন বাঙালির হ্যান্ডশেক, কনক সারোয়ার-নবনীতা চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া!

“আবেগাপ্লুত ছবি” ও “হা হা করে হাসি” নিয়ে বিতর্ক, বিএনপি নেতার সংযম ও রেইনবো নেশনের বার্তা।

“দি ইউনাইটেড জার্নাল” এর বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন। তারিখ: ১ জুন ২০২৬।

২৯ মে ২০২৬, ভার্জিনিয়ার বাংলা সাহিত্য সম্মেলনে ওয়ান ইলেভেন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ ও বিএনপি নেতা ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালির দেখা। একটি হ্যান্ডশেক ও হাসি। এরপর সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের সূত্রপাত করেন সাংবাদিক ড. কনক সারোয়ার ও নবনীতা চৌধুরী। বিতর্কের জবাবে ড. নয়ন বাঙালি নিজেই দুইজনের লেখা-বলা কোট করে পাল্টা বক্তব্য দেন। তিনজনের বক্তব্যের উপরই এই বিশ্লেষণ।

১. ড. কনক সারোয়ার:”আবেগাপ্লুত ছবি” ওয়ান-ইলেভেনের দায়।
ড. কনক সারোয়ার তার পোস্টে লিখেন: “জেনারেল মইন উদ্দিনের হাতের পুতুল ড. ফখরুদ্দীন আহমদ অবশেষে, গর্ত থেকে বের হয়েছেন। ওয়ান ইলেভেনের এই কুশীলব, মাইনাস টু ফর্মুলা এবং দেশকে বিরাজনীতিকরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিল”।

তিনি অভিযোগ করেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডসহ “হাসিনার দুঃশাসনের ১৭ বছরের দায় পরোক্ষভাবে তার ওপরও বর্তায়”। এবং সরাসরি ড. নয়ন বাঙালিকে ইঙ্গিত করে লিখেন: “বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিএনপি নেতা-কর্মীসহ অনেকেই তার সাথে ছবি তুলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন! বিএনপির এক নেতা ভিডিও করেই তার সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছেন”।

তার দাবি: “বর্তমান সরকারের উচিত কথিত ওয়ান ইলেভেন নিয়ে একটা স্বাধীন কমিশন গঠন করে ষড়যন্ত্রকারী এবং দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করা এবং বিচারের মুখোমুখি করা”।


২. নবনীতা চৌধুরী: ড. ফখরুদ্দিন এর সাথে ড. নয়ন বাঙালির “হা হা করে হাসি” নিয়ে প্রশ্ন!

সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরী তার “নবনীতা চৌধুরীর বয়ান” প্ল্যাটফর্মে বিএনপি নেতা, বিশিষ্ট আলোচক ড. নয়ন বাঙালি’র ভিডিও পোস্ট করেন। তিনি হাইলাইট করেন ড. ফখরুদ্দিন এর সাথে ড. নয়ন বাঙালির হা হা করে হাসি দিয়ে কথা বলা দৃশ্যটি। এই “হাসি” নিয়েই তার মূল প্রশ্ন ও অস্বস্তি প্রকাশ পায়।


৩. ড. নয়ন বাঙালি: দুইজনের বক্তব্য কোট করে জবাব

ড. নয়ন বাঙালি তার ফেসবুক পোস্টে সরাসরি দুইজনের বক্তব্য উল্লেখ করে জবাব দেন:

ক. ড. কনক সারোয়ার এর বক্তব্যের জবাবে তিনি লেখেন- ড. কনক সারোয়ার একজন সাংবাদিক হিসেবে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পোস্ট করেছেন। হয়তো অনেকেই ভাবছেন এখানে আমার মানহানি হয়েছে বা আমি ভুল করেছি”। তবে “একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমরা যে নির্যাতন সহ্য করি তা জেনেই করি”। এবং “তারেক রহমান চাইলেই ক্ষমতায় এসে প্রতিশোধের রাজনীতি শুরু করতে পারতেন। কিন্তু রেইনবো নেশন গড়ার দর্শন নিয়ে দেশে এসেছেন”।

খ. নবনীতা চৌধুরীর ভিডিও কোট করে: তিনি লিখেন, “আমি আরও বেশী অবাক হয়েছি যে – নবনিতা সহ আরো যেসব সাংবাদিক বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বক্ষণ ষড়যন্ত্র করেছেন তারা এখন বিএনপির জন্য মায়া দেখাচ্ছেন নাকি উস্কানি দিচ্ছেন বোঝা যাচ্ছে না”।

গ. নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা: “ড. ফখরুদ্দিন সাহেবকে আমি হয়তো একটি ধাক্কা দিতে পারতাম, গালি দিতে পারতাম, তাতেকি আমি বড় হয়ে যেতাম?”। তিনি স্পষ্ট করেন, “একটি অনুষ্ঠানে হঠাৎ করে আমাকে কেউ পরিচয় করিয়ে দিলে সে বন্ধু হউক, শত্রু হউক – সৌজন্যতা রক্ষা করতে হবে”।

“আমাদের কাজ পজিটিভ ও মানুষ নির্ভর – সংঘাত বা প্রতিশোধের কোনো জায়গা নেই”। পাশাপাশি তিনি আত্মসমালোচনা করেন: “সবার শেয়ার করা পোস্টগুলোর লক্ষ কমেন্টস দেখে বা পড়ে….. এবং আরো ভাবিত যে আমরা সঠিক পথে আছি তো?”।

বিশ্লেষণ: তিন বক্তব্যের সংঘাত ও সমন্বয় এই ঘটনায় তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক পাঠ উঠে আসে।

ড. কনক সারোয়ার এর বক্তব্য হলো “ঐতিহাসিক জবাবদিহির পাঠ”। ওয়ান-ইলেভেনের ক্ষত এখনো দগদগে। তার “আবেগাপ্লুত ছবি” মন্তব্য বিএনপির তৃণমূলের কষ্টকে রিপ্রেজেন্ট করে।

নবনীতা চৌধুরী’র “হা হা করে হাসি” প্রশ্ন হলো “জনমানসের পালসের পাঠ”। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে এমন আচরণ সাধারণ সমর্থকরা কীভাবে নেবে, সেই সংশয়!

ড. নয়ন বাঙালি’র বক্তব্য হলো “কৌশলগত সংযমের পাঠ”। তিনি দুইজনের বক্তব্যই কোট করে জবাব দিয়েছেন। কনক সারোয়ারকে “ধন্যবাদ” জানিয়ে তার গুরুত্বকে স্বীকার করেছেন। আবার নবনীতা ও তার মতো সাংবাদিকদের “মায়া নাকি উস্কানি” নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার মূল যুক্তি: ব্যক্তিগত ক্ষত থাকা সত্ত্বেও “রেইনবো নেশন গড়ার দর্শন” এর জন্য সংঘাত-প্রতিশোধের পথ বাদ দিতে হবে। “আমার মানহানি হয় নাই” বলে তিনি সৌজন্যকে দুর্বলতা না, বরং শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

“দি ইউনাইটেড জার্নাল” বিষয়টিকে তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে:

১. বিএনপির ব্র্যান্ডিং যুদ্ধে জয়: ওয়ান-ইলেভেনের পর বিএনপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল “প্রতিশোধের দল” তকমা ঘোচানো। “ড. নয়ন বাঙালি” ভার্জিনিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে ৩০ সেকেন্ডে সেই কাজটা করে দিলেন। “রেইনবো নেশন গড়ার দর্শন” লাইনটা এখন থেকে বিএনপির অফিসিয়াল ন্যারেটিভ হয়ে যাবে। এটা কৌশলগত মাস্টারস্ট্রোক।

২. তৃণমূল বনাম নেতৃত্বের টানাপোড়েন: “কনক সারোয়ার” ও “নবনীতা চৌধুরী” যে প্রশ্ন তুলেছেন, তা অমূলক না। ১৭ বছরের নির্যাতনের ক্ষত এত সহজে ভোলা যায় না। “ড. নয়ন বাঙালি’র “আমরা সঠিক পথে আছি তো?” প্রশ্নটাই প্রমাণ করে এ নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে। নেতৃত্বকে তৃণমূলের আবেগকে পাশ কাটিয়ে চললে চলবে না, বরং বুঝিয়ে সামনে নিতে হবে।

৩. নতুন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সূচনা: “ধাক্কা দিতে পারতাম, গালি দিতে পারতাম, তাতে কি আমি বড় হয়ে যেতাম?” – এই লাইন বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য মাইলফলক হতে পারে। এতদিন রাজনীতি মানে ছিল “শত্রুকে ঘায়েল করা”। “ড. নয়ন বাঙালি” দেখালেন রাজনীতি মানে “শত্রুকে স্পেস দেওয়া”ও হতে পারে। প্রবাসে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা – এটা স্টেটসম্যানশিপ।

সবশেষ কথা: এই সাক্ষাৎ বিএনপির জন্য টেস্ট কেস। দল যদি “রেইনবো নেশন” এর পথে হাঁটে, তাহলে দেশ শাসন সহজ হবে। আর যদি “প্রতিশোধের রাজনীতি”তে ফিরে যায়, তাহলে ২০০৯ এর ভুল আবার হবে। ড. নয়ন বাঙালি পথ দেখিয়েছেন। এখন সিদ্ধান্ত দলের।

-০-


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা