“‘৪০ কোটির বন নিজের নামে’ রিপোর্ট অসত্য, প্রতিবাদ জানালেন যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ”
ঢাকা, ৬ মে ২০২৬, বুধবার: চ্যানেল ওয়ানে গত ২ মে প্রচারিত ‘৪০ কোটির বন নিজের নামে, সরকারী কর্মকর্তারাই নাড়েন কলকাঠি’ শীর্ষক রিপোর্টকে ‘অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ।
আজ নিজের ফেইসবুক ওয়ালে এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রিপোর্টে উল্লিখিত জমি কখনোই সংরক্ষিত বনভূমি ছিল না এবং বন বিভাগের নামে রেকর্ডও ছিল না। সিএস থেকে সর্বশেষ বিআরএস রেকর্ড পর্যন্ত এটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি।
জমির রেকর্ডগত অবস্থান:
তানভীর আহমেদ জানান, সিএস রেকর্ডে জমিটি পুকুর, এসএ-তে টেক এবং আরএস রেকর্ডে চালা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। বন আইনের ৪ ধারার নোটিফিকেশনে সিএস ৮৪৩ দাগের উল্লেখ থাকলেও ওই দাগের মোট ২০.৩২ একরের মধ্যে ১৬.৮৩ একর গেজেটের অন্তর্ভুক্ত। অবশিষ্ট ৩.৪৯ একর নোটিফিকেশন বহির্ভূত ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, যার মধ্যে জাহেদুর রব চৌধুরী, পরে ক্রয়সূত্রে কাকলী চৌধুরীর জমিও রয়েছে।
তিনি বলেন, _“নোটিফিকেশনে ২১টি দাগে ১৩৩.৯৩ একর উল্লেখ থাকলেও ওই দাগগুলোর প্রকৃত মোট জমি ১৮৪.৬৩ একর। অর্থাৎ ৫০.৭০ একর জমি ৪ ধারার নোটিফিকেশনের বাইরে।”
আইনি ব্যাখ্যা:
যুগ্মসচিব উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তিসম্পত্তিতে ৪ বা ৬ ধারার নোটিশ জারি করলেই সেটি বন বিভাগের জমি হয় না। আইনের ১১ ধারামতে ক্ষতিপূরণ দিয়ে অধিগ্রহণ ও ২০ ধারার গেজেট চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মালিকানা পরিবর্তন হয় না। সেটেলমেন্ট আপিল মামলার রায়েও ব্যক্তি মালিকানার বিষয়টি স্পষ্ট করা আছে।
রিপোর্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ:
তিনি অভিযোগ করেন, রিপোর্টারকে ব্যক্তি মালিকানার সকল খতিয়ান, সেটেলমেন্ট আপিল মামলার রায়সহ রেকর্ডপত্র সরবরাহ করা হলেও রিপোর্টে তা উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর পাঠানো ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভয়েস মেসেজও ব্যবহার করা হয়নি। বরং ফোনালাপের ‘কাট-পিস চালাকি করে’ প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গ:
তানভীর আহমেদ জানান, ঢাকার জেলা প্রশাসক থাকাকালে জমির মালিকপক্ষ আশুলিয়া ভূমি অফিসের কানুনগোর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা এবং বন বিভাগের কর্মচারীর বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ করেন। প্রমাণ দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কানুনগোকে বদলির নির্দেশ দেন।
দাবি:
তিনি বলেন, _“এতদিন পর কি উদ্দেশ্যে এবং কার প্ররোচনায় এ ধরণের অসত্য রিপোর্ট প্রচার করে ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের চেষ্টা করা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।”_ তিনি রিপোর্ট প্রত্যাহার, প্রতিবাদ প্রচার ও দায়ী রিপোর্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন।
অসত্য প্রচারণা মোকাবিলা এবং প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এছাড়াও যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ চ্যানেল ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর একটি লিখিত প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন। এর একটি অনুলিপি এ প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলো।


– দি ইউনাইটেড জার্নাল ডেস্ক
ফেইসবুক বিবৃতি: যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ