মিরপুরে ফ্ল্যাটের ভেতর মায়ের মরদেহ পচে গেল, সন্তানদের খোঁজ মেলেনি
ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে একই ছাদের নিচে মা-মেয়ে থাকার পরও ৭ দিন ধরে মায়ের মৃত্যু টের পেলেন না মেয়ে। ফ্ল্যাটের এক কক্ষে ৭২ বছর বয়সি নূরজাহান বেগমের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল মিরপুর সেকশন-৬ এর সি ব্লক, ১২ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাড়ি। জাতীয় জরুরি সেবা ৯-এ কল পেয়ে রোববার রাতে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যু হয়েছে অন্তত এক সপ্তাহ আগে।
*যা চমকে দিচ্ছে:*
1. *এক ছাদের নিচে অজানা মৃত্যু*: নূরজাহান বেগম ও তার মেয়ে আলাদা কক্ষে থাকতেন। মা মারা যাওয়ার পরও মেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পুলিশের ভাষ্য, মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালেও মেয়ে তা টের পাননি।
2. *উচ্চপদস্থ সন্তানদের অনুপস্থিতি*: মৃতের দুই ছেলে উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চপদে কর্মরত। একজন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব, অন্যজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারা মায়ের সাথে বসবাস করতেন না। ঘটনার পর বুয়েট শিক্ষক ছেলে ঘটনাস্থলে এলেও সচিব ছেলের উপস্থিতি মেলেনি।
3. *অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ*: পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য, মৃতের কক্ষে ময়লা-আবর্জনা, ছত্রাক ও পোকা-মাকড়ে ভরা ছিল। বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশে দীর্ঘদিন একা ছিলেন বৃদ্ধা।
পল্লবী থানার ওসি হাসান বশির জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতের মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আইন কী বলছে?
পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা ৫ অনুযায়ী, সন্তান মা-বাবার ভরণপোষণ ও খোঁজ-খবর না নিলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। প্রয়োজনে আদালত নিজ উদ্যোগে এ মামলা গ্রহণ করতে পারে।
আবার দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারা মতে, কোনো ব্যক্তির অবহেলা বা অসতর্কতার কারণে মৃত্যু ঘটলে অনিচ্ছাকৃত খুন হিসেবে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বিশ্লেষণ
শিক্ষা ও পদমর্যাদা মানুষের মনুষ্যত্বের মাপকাঠি নয়। মোংলা বন্দরের সচিব, বুয়েটের শিক্ষকের মা যদি একাকী, অপরিচ্ছন্ন ঘরে মরে পচে যান, তবে সমাজের কাছে প্রশ্ন থেকে যায় – আমরা আসলে কতটা সভ্য হয়েছি?
আইনের চোখে এই অবহেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদালতের উচিত দ্রুত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। কারণ দুনিয়ার আদালত নীরব থাকলেও, বিবেকের আদালতে এই সন্তানদের ক্ষমা নেই।
*সূত্র*: Dhaka Mail, ০১ জুন ২০২৬